আজ আসছে শ্রীদেবীর মরদেহ

রবিবার বেলা আড়াইটার মধ্যে সদ্য প্রয়াত সুপারহিট নায়িকা শ্রীদেবীর মরদেহ মুম্বাই আসার কথা ছিল। এরপর সন্ধ্যা নাগাদ শেষকৃত্য হওয়ার কথা ছিল জুহুতে। গতকাল মুম্বাই এয়ারপোর্টের একটি বিশেষ সূত্র এমনটাই জানিয়েছিল।

এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবদীপ সিং সুরি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ‘পুলিশ শ্রীদেবীর মরদেহের ফরেনসিক প্রতিবেদন তৈরি করছে। এরপরই মরদেহ মুম্বাই পাঠানোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কিন্তু নায়িকার দেহ পরীক্ষার পর চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্তও তৈরি করতে পারেনি দুবাই পুলিশ। কিছু আইনি প্রক্রিয়াও বাকি ছিল। রবিবার সন্ধ্যায় দুবাই পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছিলেন। যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সোমবার সকালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।

গাল্ফ নিউজের খবর অনুযায়ী, দুবাই সরকার ও প্রশাসন রবিবারই শ্রীদেবীর মরদেহ মুম্বাই পাঠানোর জন্য তার পরিবারকে যথেষ্ট সহায়তা করেছি।। কিন্তু আইনি জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। প্রয়াত অভিনেত্রীর মরদেহ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মুম্বাই আনার জন্য দুবাই প্রশাসনের সঙ্গে সব সময়ই যোগাযোগ রাখছে ভারতীয় দূতাবাস।

প্রসঙ্গত, ভাইয়ের ছেলে মোহিত মারওয়ারের বিয়েতে অংশ নেয়ার জন্য সম্প্রতি দুবাই গিয়েছিলেন শ্রীদেবী। গত শনিবার রাত ১১টা নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সেখানেই মারা যান তিনি। তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী বনি কাপুর ও ছোট মেয়ে খুশি। করণ জোহারের ‘ধাড়াক’ছবির শুটিংয়ে মুম্বাইয়ে থাকার জন্য বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি শ্রীদেবীর বড় মেয়ে জাহ্নবী কাপুর।

মৃত্যুর সময় নায়িকার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। শনিবার রাত থেকেই শ্রীদেবীর মৃত্যুর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভারতসহ অন্যান্য দেশেও। নায়িকার মৃত্যুতে টুইট করে শোক প্রকাশ করেছেন অমিতাভ বচ্চন, প্রিয়াংকা চোপড়া, রজনীকান্ত ও কমল হাসানসহ কয়েকজন নামকরা অভিনেতা-অভিনেত্রী। রবিবার সকালে টুইট বার্তার মাধ্যমে শোক জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও।

শুধু তাই নয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সে শোক ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেও। সীমান্তের তিক্ততা ভুলে ভারতীয় অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন পাকিস্তানের অভিনেতা, অভিনেত্রী ও গায়করাও। টুইটার ও ইনস্ট্রাগামে শোকবর্তা লিখে প্রতিক্রিয়া জানান মাহিরা খান, ইমরান আব্বাস, রাহাত ফতেহ আলি খান ও সাবা কামারের মতো পাক কলাকুশলীরা।