ওভারিয়ান ক্যান্সারের বাহক হতে পারেন পিতা

ওভারিয়ান ক্যান্সার শুধুমাত্র নারীর রোগ হলেও এক গবেষণায় জানা গেছে, পিতার মাধ্যমেও এ রোগ সন্তানে বাহিত হতে পারে। শুধু তাই নয়, পিতা ওভারিয়ান ক্যান্সারের বাহক হলে তার শরীরে অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

২৪ ফেব্রুয়ারি, শনিবার আমেরিকার এক সাম্প্রতিক গবেষণার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানায় গণমাধ্যম সিএনএন। এই গবেষণা প্রকাশিত হয় পাবলিক লাইব্রেরি অব সায়েন্স (পিএলওএস) জার্নালে।

গবেষণায় বলা হয়, পুরুষের এক্স ক্রোমোজোমে থাকা এক জিনের সাথে ওভারিয়ান ক্যান্সারের সূত্র আছে। এমএজিইসি৩ নামের এই জিন নিয়ে এখনো গবেষণা করছেন তারা। এই জিন স্বাভাবিক অবস্থায় টিউমার প্রতিরোধে সাহায্য করে। কিন্তু এই জিনে মিউটেশনের ফলে তা উলটো কাজ করে, অর্থাৎ ক্যান্সার তৈরি করে।

রসওয়েল কম্প্রিহেন্সিভ ক্যান্সার সেন্টারের অধ্যাপক এবং এই গবেষণার মূল লেখক কেভিন এং জানান, ওভারিয়ান ক্যান্সারকে মাঝে মাঝে নীরব ঘাতক বলা হয়। তা শনাক্ত করা কঠিন, এবং তা কাউকে আক্রান্ত করবে কিনা তা বলা কঠিন। এং এবং তার সহকর্মীরা ধারণা করেন, যেহেতু নারীতে দুইটি কিন্তু পুরুষে মাত্র একটি এক্স ক্রমোজোম থাকে, তাই পিতার মা, অর্থাৎ দাদির থেকে ক্যান্সারের জিন আসার সম্ভাবনাটি বেশি।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভিং এর অধ্যাপক ড. কৃষ্ণাঙ্গশু তেওয়ারি মন্তব্য করেন, এই গবেষকরা আসলেই অভিনব চিন্তা করেছেন। তিনি এই গবেষণার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘যদি সমস্যাটি এক্স ক্রমোজমে থাকে, এবং মা আক্রান্ত না হলেও বোনদের ওভারিয়ান ক্যান্সার হয় তাহলে ধরে নেওয়া যায় এটি দাদির থেকে এসেছে এবং পিতা এর বাহক।’

নিউ ইয়র্কের রসওয়েল পার্ক ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের ওভারিয়ান ক্যান্সার রেজিস্ট্রি থেকে ওভারিয়ান ক্যান্সারের তথ্য নেন গবেষকরা। প্রায় ৬,০০০ নানি, দাদি এবং তাদের নাতনিদের তথ্য এখান থেকে সংগ্রহ করা হয়।

গবেষকরা দেখেন, যেসব নারীর নানি ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন তাদের তুলনায় যাদের দাদি ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন তাদের এই ক্যান্সার হবার ঝুঁকি থাকে দ্বিগুণ। এই ফলাফল তাদের প্রাথমিক ধারণাকেই আরো শক্ত করে, যে আসলেই পিতার মাধ্যমে দাদির ক্যান্সার জিন কন্যার মাঝে বাহিত হয়।

নতুন এই গবেষণার তথ্য ওভারিয়ান ক্যান্সারের ঝুঁকি আগে থেকেই বুঝতে পারার ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। ওভারিয়ান ক্যান্সার অন্যান্য গাইনোকলজিক ক্যান্সারের চাইতে বেশি মৃত্যুর কারণ হয় তাই তা শনাক্ত করা খুবই কঠিন।

নতুন এই গবেষণায় পাওয়া মিউটেশন হওয়া এক্স ক্রমোজম যদি পিতার থাকে, তবে ধরে নেওয়া যায় তার কন্যাদের এই ক্যান্সার হবার বেশ বড় ঝুঁকি আছে। এই জিনের কারণে যে ওভারিয়ান ক্যান্সারটি হয় তা বেশ কম বয়সেই দেখা যায়। ৪৫ বছরের দিকেই নারীর শরীরে প্রকাশ পেতে পারে এই ধরনের ওভারিয়ান ক্যান্সার।

এই ক্ষেত্রে পিতা যে শুধু বাহকের ভূমিকা পালন করেন তাই নয়। তিনি নিজেও ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকেন। পুরুষের ক্ষেত্রে ওভারিয়ান ক্যান্সার হয় না বটে। কিন্তু অন্যান্য ক্যান্সার, বিশেষ করে প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকেন তিনি।

সুত্র: CNN