খালেদাকে আদালতে হাজিরার শুনানি আজ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে হাজির করার বিষয়ে শুনানি হবে আজ সোমবার।

পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ অস্থায়ী আদালতে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে এই শুনানি হবে। এই বিচারকই বিএনপি নেত্রীর পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে এই আবেদন করেন আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল। রবিবার মামলাটির যুক্তিতর্কের ধার্য তারিখে ওই আবেদনের উপর শুনানি হয়।

রবিবারের শুনানিতে বিএনপি নেত্রী কারাগারে আছেন জানিয়ে তার জামিন বাড়ানোর আবেদন করেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।

এরপর দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, মামলাটি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ধার্য রয়েছে।

এই আদালতে দুটি মামলাই একসঙ্গে চলছিল। অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শুরু জয়।

গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি এবং ১ ফেব্রুয়ারি যুক্তি উপস্থাপনও করা হয়। সেদিন ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তি উপস্থাপনের পরবর্তী দিন ধার্য করেন বিচারক।

পরে ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেয়া হয়।

রবিবার খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান ও খন্দকার মাহবুব হোসেন হাইকোর্টে জামিন শুনানি হবে জানিয়ে মামলার কার্যক্রম মূলতবি রাখার আবেদন করেন। জানান, হাইকোর্ট খালেদা জিয়া স্বশরীরেই আদালতে হাজির হবেন।

তবে হাইকোর্ট শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে জামিন দেননি। আর দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল খালেদা জিয়াকে হাজির করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়ার অনুরোধ করেন।

পরে বিচারক প্রোডাকশন ওয়ারেন্টের বিষয়ে সোমবার শুনানির সিদ্ধান্তের কথা জানান।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। এ মামলায় ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

মামলাটিতে বিএনপি নেতা সচিব হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিুউটিএ এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।

আসামিদের মধ্যে হারিছ চৌধুরী এবং মনিরুল ইসলাম খান পলাতক। ফলে জিয়াউল হক মুন্নার পর খালেদা জিয়ার যুক্তি উপস্থাপনেই শেষ হবে মামলার বিচার।