খালেদার দাতব্য ট্রাস্টমামলায় যুক্তি ১৩, ১৪ মার্চ

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের জন্য নতুন তারিখ দিয়েছে বিচারিক আদালত। আগামী ১৩ ও ১৪ মার্চ যুক্তি উপস্থাপনের সময় ঠিক করেছেন বিচারক আখতারুজ্জামান।

সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান এই আদেশ দেন। এই মামলাতেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় হয়েছে। সেখানে দুটি মামলাই একসঙ্গে চলছিল।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে বকশিবাজারের বিশেষ জজ আদালতে এই মামলার শুনানি শুরু হয়। মিনিট ১৫ চলে আদালতের আনুষ্ঠানিকতা।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের পর থেকে খালেদা জিয়া কারাগারে। আর ২৫ জানুয়ারি এই মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়।

৩০, ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি যুক্তি উপস্থাপন শেষে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তি উপস্থাপনের দিন ঠিক করেন বিচারক।

আর খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় তাকে হাজির করতে প্রডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি আবেদন করেন মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তবে ২৫ জানুয়ারি শুনানি শেষে কোনো আদেশ না দিয়ে আজ এ বিষয়ে আদেশ দেয়ার কথা বলেন বিচারক। আর সেদিন খালেদা জিয়ার জামিন বাড়ানোর আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

বেলা সোয়া ১১টার দিক শুনানি আবার শুরু হলে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া বর্তমানে কারাগারে আছেন। এই মামলায় আসামির উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। তাই খালেদা জিয়াকে হাজির করতে আদালতের প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট দেয়া ছাড়া উপায় নাই।

চলতি সপ্তাহের একটি তারিখেই এই ওয়ারেন্ট দিয়ে যুক্তি উপস্থাপনের তারিখ দিতে বিচারকের প্রতি আবেদন জানান দুদকের আইনজীবী।

তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান সময় চেয়ে বলেন, ঢাকা বারের নির্বাচন আছে, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিরও একটি পার্টি আছে। আবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার নথিপত্র পাঠাতে উচ্চ আদালত যে নির্দেশ দিয়েছে, তা পালন করতে হবে ৭ মার্চের মধ্যে। এই নথি পাওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জামিন আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে হাইকোর্ট। সে আদেশ দেখে তারিখ দিলে ভালো হয়।

এরপর বিচারক আখতারুজ্জামান বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও যেসব মামলা চলমান রয়েছে, সেগুলোতে ১২ মার্চ অবধি শুনানির তারিখ রয়েছে। ফলে এর আগে এই মামলার যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ নেই।

১৩ মার্চ অবধি খালেদা জিয়ার জামিন বাড়িয়ে সেদিন এবং তার পরদিন যুক্তি উপস্থাপনের তারিখ দেন বিচারক।

আখতারুজ্জামান জানান, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার নথি দেখে হাইকোর্ট কী আদেশ দেয় তা দেখেই তিনি খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজিরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। ততদিন রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন স্থগিত থাকবে।

খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি করে দুদক। এতে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। এ মামলায় ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

মামলাটিতে বিএনপি নেতা সচিব হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিুউটিএ এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।

আসামিদের মধ্যে হারিছ চৌধুরী এবং মনিরুল ইসলাম খান পলাতক। ফলে জিয়াউল হক মুন্নার পর খালেদা জিয়ার যুক্তি উপস্থাপনেই শেষ হবে মামলার বিচার।

এই মামলায় আসামিদের সাত বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।