মাঝরাতে সৌরভকে কেন ফোন করেছিলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট?

বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক শীতলতা এতটাই যে, কোনো পর্যায়েই সেটার মধ্যে বিন্দুমাত্র শিথিলতা নেই। বৈরী সম্পর্কের কারণে প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেটীয় লড়াইটাও বিরল। বেশ কয়েক বছর ধরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ এই দুই দেশের। শুধু ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) টুর্নামেন্টগুলোতেই ময়দানী সাক্ষাৎ হয় তাদের।

তবে কয়েক বছর আগেও এমন পরিস্থিতি ছিল না। তখন নিয়মিতই ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট দল একে অন্যের মাঠে খেলতে যেত। সে সময়েরই একটি ঘটনা এবার সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির আত্মজীবনীতে ওঠে এল নতুনভাবে। তার আত্মজীবনী ‘আ সেঞ্চুরি ইজ নট এনাফ’ বইটিতে তিনি লিখেছেন, ২০০৪ সালের পাকিস্তান সফরে মাঝরাতে হঠাৎ তাকে ফোন করেছিলেন দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারফেজ মোশাররফ।

সেই সফরে ভারতীয় ক্রিকেট দলের নেতৃত্বে ছিলেন সৌরভ। কিন্তু সিরিজ চলাকালীন ভারতীয় অধিনায়ককে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি কেন ফোন করেছিলেন? তাও আবার মধ্যরাতে!

আত্মজীবনীতে সৌরভ লিখেছেন, ‘একদিন মাঝরাতে হঠাৎ দেখি আমার বন্ধুরা মিলে প্ল্যান করছে পাকিস্তানের গলমান্ডির বিখ্যাত ফুড স্ট্রিটে কাবাব ও তন্দুরি চিকেন খেতে যাবে। এটা শোনার পরেই আমি লোভ সামলাতে না পেরে সিকিউরিটি অফিসারকে না জানিয়ে টিম হোটেলের বাইরে বেরিয়ে পড়ি। শুধুমাত্র টিম ম্যানেজার রত্নাকর শেঠিকে বলে গিয়েছিলাম। কারণ, আমি নিশ্চিত ছিলাম, সিকিউরিটি অফিসারকে বললে আমাকে যেতে দেবে না।’

‘‘নিয়ম ভাঙছি জেনেই মুখ ঢেকে, টুপি পরে আমি হোটেলের পেছনের দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যাই। ভয় ছিল যদি কেউ চিনে ফেলে। শেষ পর্যন্ত হলোও তাই। একজন জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনি সৌরভ গাঙ্গুলি না? আমি চাপাস্বরে ‘না’ বলে পাশ কাটিয়ে চলে যাই।’’

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল সৌরভ গাঙ্গুলির। ছবি: সংগৃহীত

‘কিন্তু ফুড স্ট্রিটের ডিনার টেবিলে আমাকে চিনে ফেলেন সিরিজ কাভার করতে আসা এক ভারতীয় সাংবাদিক। তিনি উত্তেজনার বশে নাম ধরে জোরে ডাকতেই শোরগোল পড়ে যায়। চারিদিক থেকে লোক জড়ো হয়ে আমাকে ঘিরে ফেলে। বিল মিটিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে গেলে হোটেলের ম্যানেজার বিল নিতে অস্বীকার করেন। আমার মনে আছে তিনি বলেছিলেন, আপনার মত আগ্রাসী মানসিকতার একজনকে চাই যে পাকিস্তান দলের নেতৃত্ব দেবে।’

তিনি লিখেন, ‘ফুড স্ট্রিট থেকে মাঝরাতে গাড়িতে হোটেলে ফেরার পথে আরও বিপত্তি। আমাদের গাড়ির পেছনে সারি সারি বাইক আর তাদের চিৎকার। শেষ পর্যন্ত নিরাপদে টিম হোটেলে ফিরে আসি। কিন্তু খবরটা পৌঁছে গিয়েছিল প্রেসিডেন্ট মোশাররফের কাছে। তিনি আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, পরেরবার কোথাও টিম হোটেল থেকে বের হলে যেন নিরাপত্তারক্ষীদের জানিয়ে যাই। পাকিস্তানের অনিরাপদ পরিবেশে মাঝরাতের অ্যাডভেঞ্চার যেন না করি।’

সূত্র: টাইমস নাও