রোনালদোর বাজার মূল্য এক লাফে ৮০ থেকে ১২০ মিলিয়ন!

এই তো গত ডিসেম্বরেও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর বাজার মূল্য ছিল মাত্র ৮০ মিলিয়ন ইউরো। সর্বোচ্চ বাজার মূল্যধারীদের তালিকার শীর্ষ ২০-এও জায়গা ছিল না তার। সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকায় সেই রোনালদো উঠে এসেছেন ৫ নম্বরে। তার বাজার মূল্য ৮০ মিলিয়ন থেকে এক লাফে বেড়ে এখন ১২০ মিলিয়ন ইউরো।

দুঃসময়কে পেছনে ফেলে ২০১৮ সালের শুরু থেকেই অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। ২০১৮ সালে মাত্র ১২ ম্যাচেই কেরেছেন ১৭ গোল। মানে ম্যাচপ্রতি গোলের হার ১.৪১! উড়ন্ত এই পারফরম্যান্সই তরতর করে বাড়িয়ে দিয়েছে তার বাজারমূল্য। কে জানে, এই আগুনে ফর্ম অব্যাহত থাকলে রোনালদো হয়তো ছুঁয়ে ফেলবেন শীর্ষে থাকা নেইমার-মেসিকেও!

রিয়াল তারকা নিশ্চিতভাবেই বর্তমানের সেরা তিন খেলোয়াড়ের একজন। তারপরও বাজার মূল্যের দিক থেকে পিছিয়ে থাকার কারণ, তার বয়স। পারফরম্যান্সের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের বয়সও বাজারমূল্য নিরূপণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পারফরম্যান্স, বয়স, ভবিষ্যত সম্ভাবনাসহ আরও বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করে খেলোয়াড়দের বাজারমূল্য নিরূপণ করে থাকে জার্মানি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সফার মার্কেট।

খেলোয়াড়দের বয়স যত বেশি হয়, সম্ভাবনার গ্রাফটা ততই নিচের দিকে নামতে থাকে। ফলে নিচের দিকে নামতে থাকে বাজারমূল্যের গ্রাফটাও। রোনালদো এরই মধ্যে ৩৩ পেরিয়ে গেছেন। তারপরও সাম্প্রতিক বিস্ময়কর পারফরম্যান্সের সুবাদে এক লাফে ৫ নম্বরে উঠে এসেছেন। রোনালদোর বাড়লেও তার সতীর্থ গ্যারেথ বেলের বাজারমূল্য কমেছে। রিয়ালের ওয়েলস উইঙ্গারের বর্তমান বাজারমূল্য ৭৫ মিলিয়ন ইউরো। যা তাকে নিয়ে গেছে তালিকার ২৫ নম্বরে।

চুক্তির অঙ্কের ভিত্তিতে বর্তমানেই শুধু নয়, ফুটবল ইতিহাসেরই সবচেয়ে দামী ফুটবলার নেইমার। বাজারমূল্যের ভিত্তিতেও পিএসজির ব্রাজিলিয়ান তারকাই সবার উপরে। সর্বোচ্চ বাজার মূল্য তারই। বাজার মূল্যে নেইমারের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা লিওনেল মেসির সঙ্গে। বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা আছেন দুই নম্বরে।

তবে মজার ব্যাপার হলো গত ডিসেম্বরের তুলনায় তাদের দুজনের বাজার মূল্যই কমেছে বেশ বড় অঙ্কে। ডিসেম্বরে এক নম্বরে থাকা নেইমারের বাজারমূল্য ছিল ২১৩ মিলিয়ন ইউরো। যা প্রায় তার চুক্তির অঙ্কের কাছাকাছি। গত আগস্টে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড বার্সেলোনা থেকে পিএসজিতে যোগ দিয়েছেন রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরোর ট্রান্সফার চুক্তিতে। সেই নেইমারের বর্তমান বাজারমূল্য কমে এখন ১৮০ মিলিয়ন ইউরোর কিছু বেশি!

ডিসেম্বরে মেসির বাজারমূল্য ছিল ১৯৭ মিলিয়ন ইউরো। অঙ্কটা কমে বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকার বাজারমূল্য এখন কাটায় কাটায় ১৮০ মিলিয়ন ইউরো। মানে মূল্য কমলেও মেসি শীর্ষে থাকা নেইমারের কাঁধে ফেলছেন তপ্ত নিঃশ্বাস।

চোটের কারণে নেইমার ছিটকে পড়েছেন মাঠের বাইরে। গত বছরের তুলনায় ২০১৮ সালে মেসির পারফরম্যান্সও যেন কিছুটা ম্রিয়মাণ। যদিও চেলসির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলতে জাদু দেখিয়েছেন মেসি। তবে ওই দুই ম্যাচ বাদে লিগে মেসি নিজের মান থেকে যেন একটু দূরেই। তারই প্রভাব পড়েছে বাজারমূল্যে।

বাজারমূল্যে নেইমার-মেসির পরেই আছেন পিএসজির ফরাসি তরুণ কিলিয়ান এমবাপে। নেইমারের ক্লাব সতীর্থের বাজারমূল্য ৫ থাকে রোনালদোর সমানই, ১২০ মিলিয়ন ইউরো। ৪ নম্বরে থাকা টটেনহামের ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেনের বাজারমূল্যও ১২০ মিলিয়ন ইউরো। তবে বয়স এবং পূর্ব তালিকার ক্রমানুসারে এমবাপে তিনে, হ্যারি কেন চারে রোনালদো পাঁচে।

বাজারমূল্যে শীর্ষ দশে জায়গা পাওয়া অন্য ৫ ফুটবলার হলেন ম্যানচেস্টার সিটির বেলজিয়ান মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইন (১১০ মিলিয়ন), অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের আতোইন গ্রিজমান (১০০ মিলিয়ন), চেলসির বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড এডেন হ্যাজার্ড (১০০ মিলিয়ন), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফরাসি মিডফিল্ডার পল পগবা (৯০ মিলিয়ন) ও বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ফিলিপে কুতিনহো (৯০ মিলিয়ন ইউরো)। ৮৫ মিলিয়ন ইউরো নিয়ে ১১ নম্বরে জুভেন্টাসের তরুণ আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড পাওলো দিবালা।