বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকদের নবম ওয়েজ বোর্ডভুক্ত করার দাবি

গণমাধ্যমের কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম ওয়েজ বোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকদের গ্রেডভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ঢাবিসাস)।

৩০ মার্চ, শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে নবম ওয়েজ বোর্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক’ ও দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি/সংবাদদাতা’ পদ দুটি গ্রেডভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ঢাবিসাসের সভাপতি আসিফ ত্বাসীন ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নয়ন।

সমিতির দফতর সম্পাদক রায়হানুল কবির আবির স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সরকার সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ করতে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ঘোষণা অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গত ২৯ জানুয়ারি বিচারপতি মো. নিজামুল হককে চেয়ারম্যান করে নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন করেছে। এ জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘‘অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক’ ও ‘বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার/প্রতিবেদক/প্রতিনিধি/সংবাদদাতা’ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্র-জনতাকে উজ্জীবিত করতে তারা ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাগরণের পেছনেও ছিল তাদের অনবদ্য ভূমিকা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা শহীদ সাংবাদিক চিশতী শাহ হেলালুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন।’’

বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, ‘‘বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আটটি ওয়েজ বোর্ড হলেও কোনোটিতে ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক’ ও ‘বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার/প্রতিবেদক/প্রতিনিধি/সংবাদদাতা’ শ্রেণিতে গ্রেডভুক্ত হয়নি। ওয়েজ বোর্ডে এ সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা না থাকায় যুগের পর যুগ তারা অবহেলিত হয়ে আসছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকদের নিয়োগ প্রদানকালে ‘প্রতিনিধি’ হিসেবে খণ্ডকালীন এবং অস্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। কাগজে-কলমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি বলা হলেও তাদেরকে নিজস্ব প্রতিবেদকের মতোই ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের কাজের এই সময়কে ‘কাজের অভিজ্ঞতা’ হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকদের সপ্তাহের সাত দিনই অফিস করতে হয়, কোনো সাপ্তাহিক ছুটি থাকে না। অন্যদিকে বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে তাদেরকে অফিসের ইচ্ছার ওপরই নির্ভর করতে হয়। সেখানে গণমাধ্যমভেদে বড় ধরনের বৈষম্য লক্ষণীয়।’’