কোটা সংস্কার আন্দোলন স্বতস্ফূর্ত: নাসির উদ দুজা

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী হলে ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টির কারণে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫৬% ভাগ পদ বিভিন্ন কোটার অধীনে রাখার প্রতিবাদে ও এ কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী গড়ে ওঠা স্বতস্ফূর্ত আন্দোলনে লাখ লাখ ছাত্র-ছাত্রীর অংশগ্রহণ এ অসম কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে ছাত্র-যুব সমাজের ক্ষোভের তিব্রতা প্রতিফলিত হয়েছে।’

এ আন্দোলন চলাকালে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের ‘আচরণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে’ বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ নেতা।

আশির দশকে ছাত্রনেতা নাসির উদ দুজা

তিনি মনে করেন, ‘সংস্কারের যৌক্তিক দাবি অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আবেগতাড়িত ও পুরো কোটা বাতিলের ঘোষণা দায়িত্ত্বজ্ঞানহীন ও অরাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ।’
বর্তমানে কানাডা প্রবাসী সাবেক এ ছাত্রনেতা বলেন, ‘দেশের শ্রেণিবিভক্ত সমাজে বিদ্যমান আর্থসামাজিক বিবেচনায় চাকরিতে কোটা প্রথার এখনো প্রয়োজন রয়েছে। সামাজিক, আর্থিক ও উন্নয়নে পিছিয়ে থাকা জনজাতির কল্যাণ, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পোষ্যদের অন্তর্ভুক্ত রেখে কোটা বহাল একটি যোক্তিক দাবি।’

নাসির উদ দুজা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর সরকারের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ না নিয়ে বরঞ্চ আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর ক্ষমতাসীন দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলদাস বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভীতিকর দমনপীড়ন নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক। কোন প্রকার প্রশাসনিক পদ্ধতি অনুসরণ ছাড়াই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে রাতের অন্ধাকারে ছাত্রী হল থেকে আবাসিক মেয়েদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত, ছাত্র-ছাত্রীদের নামে মিথ্যা মামলা ও ভয়ভীতি দেশে অতীতের সব স্বৈরাচারী ইতিহাসকে ম্লান করে দিয়েছে।’

বিবৃতিতে ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার ও দমন-পীড়ন বন্ধ করে ‘কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবি’ মেনে নেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরির আহ্বান জানান নাসির উদ দুজা।