বাড়ছে নারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি

কখনো কখনো বুকে চিনচিন ব্যথা করে উঠলেই আমরা দুশ্চিন্তায় ডুবে যাই, মনে করি হার্টে সমস্যা হচ্ছে না তো? হৃদরোগ নিয়ে আমরা সবাই কম-বেশি চিন্তিত থাকি। তবে সঠিক ধারণা ও সঠিক জীবনযাত্রা না থাকার করণে দিনে দিনে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়েই চলছে। তবে নারীরা রয়েছে পুরুষের থেকে বেশি ঝুঁকিতে এমনটিই এক গবেষণায় উঠে এসেছে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আর মানসিক চাপে পুরুষের সঙ্গে সঙ্গে হৃদরোগের সমস্যা বেড়ে চলেছে নারীদেরও।

বিশ্ব জুড়ে পুরুষদের তুলনায় নারীরা তিনগুণ বেশি হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছেন। ২০১৭ সালে প্রায় ৪১% নারীর দেহে উচ্চ কোলেস্টেরল পাওয়া গেছে, যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

অধিকাংশ নারী হৃদ্‌রোগ সম্পর্কে সচেতন নন। তাই ওই রোগে আক্রান্ত অধিকাংশ নারীদের গোড়া থেকেই কোনোরকম চিকিৎসা হয় না। বিশেষত, যারা কোনো শারীরিক কসরত না করেও খুব ঘামেন, তাদের ডাক্তারকে বিষয়টি জানানো দরকার।

নারীদের ওজন কমানোর প্রবল ইচ্ছা এবং তার জন্য নানা ধরনের কসরত, রাসায়নিক ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় খাবারদাবার থেকেও নিজেকে বঞ্চিত করে রাখার প্রবণতাই কি হৃদ্‌রোগের মতো প্রাণঘাতী সমস্যা তৈরি করছে এমটাই বিশেজ্ঞরা জানার চেষ্টা করছেন।

হৃদরোগ চিকিৎসকদের একাংশ জানিয়েছেন, ‘সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ অনেকটা পথ দুর্ঘটনার মতোই। কখন, ঠিক কী কারণে হঠাৎ সমস্যা তৈরি হবে, সেটা আন্দাজ করা যায় না।

তবে পরিমিত খাবার ও প্রয়োজনীয় শারীরচর্চা একাধিক রোগ প্রতিরোধ করতে পারে। ওষুধ কিংবা সার্জারি নয়। বরং প্রয়োজনীয় পরিমাণে খাবার ওজন ঠিক রাখার সঙ্গে সঙ্গে শরীর সুস্থ রাখে, বলছেন হৃদ্‌রোগের চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকদের একাংশ মনে করছেন, অসময়ে খাওয়া এবং অতিরিক্ত তেল মসলাদার খাবারে অভ্যস্ত হওয়া, পরিমিত আহার সম্পর্কে ধারণার অভাব এ সমস্যা ডেকে আনছে।

চিকিৎসকরা আরো বলছেন, পরিমাণের পাশাপাশি কী খাওয়া হচ্ছে, সেটাও দেখা জরুরি। অতিরিক্ত মসলাদার খাবার কম পরিমাণে খেলেও সেটা শরীরের জন্য ঠিক নয়।

তাই নিজেকে সুস্থ রাখতে নিজের জীবনযাত্রা সম্পর্কে সচেতন হন। যদি কোনো শারীরিক সমস্যা যেমন অতিরিক্ত ঘাম, বুকে ব্যথা, নিঃশ্বাসে সমস্যা যদি আপনার কাছে স্বাভাবিক মনে না হত তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।