লেপ্রসি কমপ্লিকেশনস ম্যানেজমেন্ট ও করণীয়

কথায় আছে–রোগ বালাই বলে কয়ে আসে না। কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়। যেকোনো অসুখ মারাত্মক আকার ধারণ করার আগে নানা ধরণের উপসর্গ দেখা দেয়। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই সেসব উপসর্গকে গুরুত্ব সহকারে দেখি না। ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো যায় না। অথচ সামান্য একটু সচেতনতাই পারে যেকোনো অসুখ প্রকট আকার ধারণ করার আগে আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে। তেমনি একটি বিষয় লেপ্রসি কমপ্লিকেশনস।
লেপ্রসি কমপ্লিকেশনস কী এবং এটার প্রয়েজনীয়তা কতটুকু কিংবা আমাদের দেশে বর্তমানে এই বিষয়ে সুযোগ-সুবিধা কতটুকু আছে জানা জরুরি। তার আগে জেনে নেয়া যাক লেপ্রসি কমপ্লিকেশনস ম্যানেজমেন্ট বিষয়টির প্রতি অবহেলা করা হলে এর কী প্রভাব পড়তে পারে আমাদের সমাজে এবং লেপ্রসি আক্রান্ত রোগীর ওপর।

লেপ্রসি কমপ্লিকেশনস ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে শুরুতে একটা ধারনা নেয়া যাক। মূলত লেপ্রসি কমপ্লিকেশন ম্যানেজমেন্ট বা কুষ্ঠরোগের জটিলতার ব্যবস্থাপনা হচ্ছে কুষ্ঠরোগ জনিত শারীরিক সমস্যাগুলোর; যেমন-রিয়্যাকশন, স্নায়ুর প্রদাহ, ঘাঁ ও মাংসপেশীর দুর্বলতা ইত্যাদির সঠিক ও যথাসময়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। এই কমপ্লিকেশন বা জটিলতার কারণেই কুষ্ঠরোগ জনিত বিকলাঙ্গতার সৃষ্টি হয়। আর এই বিকলাঙ্গতাই হচ্ছে সকল প্রকার সামাজিক ও মানসিক সমস্যার প্রধান কারণ।

লেপ্রসি কমপ্লিকেশনস এর প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অপরিসীম। জটিলতার ব্যবস্থাপনা ছাড়া বিকলাঙ্গতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধিতার শিকার কোনো রোগীর আরও বেশি বিকলাঙ্গতা যেন না হয় তার জন্য এটার কোনো বিকল্প নেই।

আমাদের দেশে জটিলতার ব্যবস্থাপনা খুবই অপ্রতুল। সরকারিভাবে ঢাকা, সিলেট ও নীলফামারীতে মাত্র তিনটি বিশেষায়িত কুষ্ঠ হাসপাতাল রয়েছে। এই হাসপাতাল তিনটিতে ঘাঁ ও রিয়্যাকশন ব্যবস্থাপনা ছাড়া আর কোনো মাইনর বা মেজর অপারেশনের ব্যবস্থা নেই। ডেনিশ বাংলাদেশ লেপ্রসি মিশন একমাত্র বেসরকারি হাসপাতাল যেখানে রিকন্সট্রাক্টিভ সার্জারি হয়ে থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই হাসপাতালটির অবস্থান ঢাকা থেকে অনেক দূরে যা যাতায়াতের জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ নয়।

লেপ্রসি কমপ্লিকেশনস ম্যানেজমেন্ট-এর বিষয়টির প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করা হলে এর কী প্রভাব আমাদের সমাজে পড়তে পারে সে সম্পর্কেও একটা ধারনা থাকা জরুরি। আসলে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। কমপ্লিকেশন ম্যানেজমেন্ট-এর ক্ষেত্রে অবহেলা করলে কুষ্ঠজনিত প্রতিবন্ধিতা বা বিকলাঙ্গতার হার যাবে বেড়ে। ফলে সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব বাড়তেই থাকবে। কুষ্ঠ ভালো হয় না এমন ভ্রান্ত ধারনাটি মানুষের মনে আরও বেশি বদ্ধমূল হবে। অসহায় কুষ্ঠরোগাক্রান্ত এই মানুষগুলোর জীবন হবে আরও দুর্বিষহ ও যন্ত্রণাময়। সুতরাং, এক্ষেত্রে অবহেলা করার মোটেও সুযোগ নেই।

লেপ্রসি কমপ্লিকেশনস ম্যানেজমেন্ট-এর নিশ্চয়তার জন্য যে পদক্ষেপগুলো নেয়া উচিত সেগুলো হল, প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লেপ্রসি কমপ্লিকেশন ম্যানেজমেন্টের কার্যক্রম চালুকরণ, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রিয়্যাকশন নিউরাইটিস ও আলসার কেয়ার-এর ব্যবস্থা করা, টিএলসিএ (টিবি এবং লেপ্রসি কন্ট্রোল এ্যাসিস্টান্ট) ও পিও (প্রোগ্রাম অর্গানাইজার) দের কমপ্লিকেশন ম্যানেজমেন্ট-এর ওপর প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করা। যাতে প্রাথমিক অবস্থায় জটিলতাগুলো সনাক্তকরণে সক্ষমতা অর্জন করা যায় ও প্রয়োজনে যেন যথাযথ স্থানে রেফার করতে পারেন। উপজেলা পর্যায়ে মেডিকেল অফিসারদের কমপ্লিকেশন ম্যানেজমেন্টের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা, সরকারি তিনটি কুষ্ঠ হাসপাতালে রিকন্সট্রাক্টিভ সার্জারিসহ মাইনর সার্জারির ব্যবস্থা চালুকরণ

লেখক : সাংবাদিক ও গবেষক