এ জঘন্য অপরাধের শাস্তি কি?

 

যখন মা দিবস, মা দিবস করে আমরা ফেসবুক, পত্রিকায় একের পর এক মাকে ভালবাসার কথা লিখছি, তখন কোন এক মার বুকফাটা আর্তনাতে সমস্ত পৃথিবী কেঁপে উঠছে। কিভাবে সন্তান এতো জঘন্য কাজ করতে পারে। কি শাস্তিই বা তার দেয়ার আছে? এই কুলাঙ্গার ছেলেকে মা ১০ মাস ১০ দিন পেটে রেখে পরম যত্নে লালন পালন করছে কি এ জন্য?

গুজরাতের পাটান শহরের জল চক এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘটে গেছে এক নির্মম ঘটনা। রাত ১টা নাগাদ মা যখন তাঁর ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন, তখনই জল খাওয়ার নাম করে তাঁর ঘরে ঢোকে রোহন। তার পর আচমকাই সে ঝাঁপিয়ে পড়ে মায়ের উপর। মা যাতে চেঁচামেচি করতে না পারেন, তার জন্য মায়ের মুখে কাপড় গুঁজে দেয় রোহন। তার পর সে মাকে ধর্ষণ করে ।

মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ২২ বছরের যুবক রোহন (ছদ্মনাম)-কে শনিবার গ্রেফতার করেছে।

রোহনের ৪৬ বছর বয়সী মা চেঁচামেচি করে লোকজন ডাকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রায় রোজই মা-ছেলের মধ্যে চেঁচামেচি হয় বলে কেউই আর ঘর থেকে বেরিয়ে আসেননি।

রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফিক ছবি দেখত রোহন। এমনকী, মা আর ২০ বছর বয়সী বোনের সামনেও পর্নোগ্রাফির ভিডিও দেখত রোহন। মহিলা পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে জানিয়েছেন, এর আগেও রোহন তাঁকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেছিল। এই ঘটনার পর মানসিক ভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন রোহনের মা। পরে তা কাটিয়ে তিনি তাঁর স্বামীকে সব ঘটনা জানান। স্বামী পেশায় রাজমিস্ত্রি। তার পর তাঁরা আমদাবাদে থাকা বড় ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর মহিলা লিখিত অভিযোগ করেন পুলিশের কাছে।

পাটান বি ডিভিশন পুলিশ স্টেশনের সাব-ইন্সপেক্টর আর এম রবারি বলেছেন, ‘‘রোহনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা অভিযুক্ত আর তার মা, দু’জনেরই মেডিক্যাল পরীক্ষা করব। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ এবং ৫০৪ ধারা অনুযায়ী, রোহনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে ধর্ষণের মামলা।’’

উইমেন জার্নাল/আরএস