সঙ্গীর ত্যাগ করা বায়ু বাড়াবে আপনার আয়ু!!

ফিচার ডেস্ক, উইমেনজার্নাল।প্রকাশিত : ২৬ মে ২০১৮, ২০:০০

বায়ু (পাদ) জীবনেরই একটা অংশ। শুধুমাত্র আমেরিকাতেই প্রতিদিন গড়ে ৬.৩ বিলিয়ন (ছয়শ ত্রিশ কোটি) বায়ু বাতাসে মেশে। অর্থাৎ জনগণ এই পরিমাণ হাওয়া একদিনে ছাড়ে। এ তো গেল শুধু আমেরিকার হিসাব। আমাদের দেশ বাংলাদেশের এই বিপুল সংখ্যক জনগণ কি পরিমাণ অবদান রাখেন সেই হিসেব আমাদের কাছে নেই, জানামতে হয়নি কোন শুমারি বা পরিসংখ্যান।

তবে এটা নিয়ে অনেকেই কথা বলতে চান না, লজ্জা পান বা কেউ কেউ এটা নিয়ে কথা বলাও অপরাধ মনে করেন। কিন্তু গবেষণা থেমে নেই।সম্প্রতি বাদ নিয়ে গবেষনা করেন এমন বিজ্ঞানীরা জানালেন সঙ্গীর ত্যাগ করা বায়ুর দূর্গন্ধে আছে স্বাস্থ্য ভাল রাখার গোপন শক্তি!

গবেষণায় বলা হয়েছে, হাইড্রোজেন সালফাইড, যে গ্যাসটি ফেঁপে উঠে এমন ঘৃণ্য গন্ধের সৃষ্টি করে, আপনার হার্ট এটাক, স্ট্রোক, ক্যান্সার এবং স্মৃতি হারিয়ে যাওয়া রোধ করে। যখন আমরা সুস্থ থাকি আমাদের কোষগুলো নিজের জন্য হাইড্রোজেন সালফাইড তৈরি করে যা কোষের মাইটোকন্ড্রিয়া – কোষের শক্তিঘর- কার্যক্ষম রাখে।

এই গ্যাসটি ছাড়া আমাদের কোষগুলো মারা যায় এবং নিজেদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারায়।

ইউনিভার্সিটি অফ এক্সেটার এর গবেষকরা আবিষ্কার করেন যে হাইড্রোজেন সালফাইড আপনার শরীরের রোগ ব্যাধি প্রতিহত করে। বিশেষজ্ঞরা এপি৩৯ নামের একটা যৌগ বানিয়েছেন যা শরীরে সঠিক পরিমাণের হাইড্রোজেন সালফাইড উৎপাদন করে। এই যৌগটি শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত মাইটোকন্ড্রিয়াকে সচল করে, যা স্ট্রোক, হার্ট এটাক এবং ডায়বেটিসের মত রোগ প্রতিরোধ করে।

ম্যাট হোয়াইটম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে কর্মরত, বলেন , ”যখন কোষগুলো রোগের দ্বারা ক্লান্ত হয়ে যায়, তারা এনজাইমদের কাজে লাগায় পরিমাণ মত হাইড্রোজেন সালফাইড তৈরি করতে।এটা কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াকে সচল রাখে এবং কোষকে বাঁচিয়ে রাখে। যদি এটা না ঘটে তবে কোষ মারা যায় এবং রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারায়।”

তারা বলছেন যে, ”আমরা এটা পরীক্ষা করেছি একটা যৌগ বানিয়ে, যার নাম এপি৩৯, যা মাইটোকন্ড্রিয়াতে দেয়া হলে দেখা যায় দুর্বল মাইটোকন্ড্রিয়া আবার সচল হয় এবং সে কোষকে বাঁচিয়ে রাখে।”এপি৩৯ রক্তচাপ কমায়, এবং নাটকীয়ভাবে হার্ট এটাকের ঝুঁকি কমায়।

সুতরাং বায়ু ছাড়া নিয়ে সঙ্গীর সাথে আর নয় ঝগড়া।কারন থাকতে হবে সুস্থ।

উইমেনজার্নালবিডিডটকম/এজে