বেশি খাওয়ার আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসুন

 

আমাদের শরীরে লুকিয়ে আছে কিছু কঞ্জুস (থ্রিফ্টি) জিন৷ আদিকালে যখন অত কথায় কথায় খাবার পাওয়া যেত না, তখন এর কাজ ছিল, যত কম ক্যালোরিই খাওয়া হোক না কেন, তার থেকে ভবিষ্যতের জন্য কিছুটা জমিয়ে রাখা৷ সে স্বভাব এখনও আছে তার৷ তাই সে ক্রমাগত মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে হাই ক্যালোরি খাবার খেতে, যাতে ভাল করে ক্যালোরি সঞ্চয় করা যায়৷ ইচ্ছাশক্তি প্রবল না হলে বা আসক্তি কাটানোর ট্রিক যথাস্থানে প্রয়োগ করতে না পারলে মিষ্টি, চর্বিসমৃদ্ধ বা নোনতা খাবারের সামনে তাই প্রতিরোধ হারিয়ে যাওয়া কোনও বড় ব্যাপার নয়৷

কিভাবে কাটাবেন এই আসক্তি

) যা খেতে ইচ্ছে করছে তা না খেলে যদি অসহ্য লাগে অন্য উল্টোপাল্টা খাবার খেয়ে ফেলার প্রবণতা বাড়ে, ঠিক করুন, ১৫ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়ামের পর পছন্দের জিনিসটি অল্প করে খাবেন৷ এতে দুভাবে কাজ হয়৷ হয় মিনিট ১৫ মধ্যে ক্রেভিং চলে যায়৷ আর না গেলে হাইক্যালোরি খাবার খাওয়ার আগে কিছুটা অন্তত ক্যালোরি ঝড়ে৷ তবে যাঁরা পছন্দের জিনিস খেতে শুরু করলে আর থামতে পারেন না, তাঁদের পথে না হাঁটাই ভাল৷

) ঘুম কম হলে ভাজা বা মিষ্টির প্রতি আসক্তি বাড়তে পারে৷ সে বিপদ এড়াতে কাজে আসে ক্যাফেইন৷ কাজেই চিনি ছাড়া কালো চা বা কফি খান দু’–চার কাপ৷ তবে হল কুইক ফিক্স, কোনও স্থায়ী সমাধান নয়৷ স্থায়ী ফল পেতে ঘুমের সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করুন৷

) প্রবল খিদের মুখে হাই ক্যালোরি ভাজা বা প্রসেস্ড ফুডের আসক্তি বাড়ে৷ কাজেই খিদে মাত্রা ছাড়ানোর আগেই স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে নিন কিছুটা৷ কখন কী খাবেন তার মোটামুটি একটা প্ল্যান যেন থাকে৷

) খাবারে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন থাকে৷ ওবেসিটি জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধ থেকে জানা যাচ্ছে, খাবারের মোট ক্যালোরির ২৫ শতাংশ প্রোটিন থেকে এলে ভুলভাল খাবার খাওয়ার প্রবণতা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে যায়৷ গভীর রাতে বসে বসে ভাজাভুজি খাওয়ার প্রবণতাও হয়ে যায় প্রায় অর্ধেক৷

) চিউয়িং গাম মুখে রাখলে মিষ্টি এবং নোনতা খাবারের আসক্তি কিছুটা কমে বলে জানা গিয়েছে৷ তবে তা যেন সুগারফ্রি হয়৷ নাহলে আবার কিছু ক্যালোরির ধাক্কা৷

) শরীরে জলের ঘাটতি না হলে খাই খাইভাব একটু কমই হয়৷ কাজেই কী ধরনের কাজ করেন তার উপর নির্ভর করে দিনে কম করে আড়াইতিন লিটার জল খান৷

) রাগ, দুঃখ, স্ট্রেস বাড়লে গ্লুকোজসমৃদ্ধ কমফর্ট ফুড খেয়ে ফেলার চান্স প্রতি পদে৷ সে বিপদ এড়াতে গান, ব্যায়াম, আড্ডা বা পছন্দের কোনও বিষয়ে ডুবে যান৷ একএকটা ক্রেভিংয়ের মুহূর্ত থাকে মিনিট৷ সে সময়টুকু কাটিয়ে দিতে পারলে বিপদ কমে যায়৷

) চারদিকে পছন্দের খাবার ছড়ানো থাকলে নিজেকে সামলানো খুব কঠিন ব্যাপার৷ কাজেই ঘরে হাইক্যালোরি খাবারের স্টক করবেন না৷ চলাফেরা করার চেষ্টা করবেন এমন এলাকায় যেখানে সেই সব খাবারের নামগন্ধও নেই৷ পার্টিতে যাওয়ার আগে কিছু প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন৷

উইমেন জার্নাল/আরএস