মাতৃগর্ভেও পাওয়া গেলো বায়ুদূষণ!

এটা আমাদের সবারই জানা যে দূষণের কারণে মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর ক্ষতি হতে পারে। বায়ুদূষণ থেকে হতে পারে অসময়ে প্রসব, সন্তানের ওজন কম হওয়া এমনকি সন্তানের মৃত্যু। এর পাশাপাশি শিশুর স্থুলতা বা ওবেসিটি, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা ও মস্তিষ্কে সমস্যা হতে পারে। দূষণ থেকে এসব সমস্যা কী করে তৈরি হয়, তা জানা গেছে সম্প্রতি। গবেষকরা দেখেছেন, গর্ভের প্লাসেন্টা বা অমরা অংশটিতে বায়ু দূষণের প্রমাণস্বরূপ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কার্বন কণিকা উপস্থিত।

যুক্তরাষ্ট্রের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির চিকিৎসক নরিস লিউ এবং পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চার লিসা মিয়াশিতার এই গবেষণা প্রকাশিত হয় প্যারিসের ইউরোপিয়ান রেসপিরেটরি সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস সম্মেলনে।

গবেষকরা সদ্য-মা হওয়া ৫ নারীর প্লাসেন্টা পরীক্ষা করেন। এই পাঁচ নারী অধূমপায়ী ছিলেন এবং তাদের সবারই সন্তান হয় সি-সেকশন বা সিজার অপারেশন করে। তারা বাস করতেন বায়ুদূষণে জর্জরিত শহর লন্ডনে। এই প্লাসেন্টাগুলো থেকে ৩,৫০০ ম্যাক্রোফ্যাগাল কোষ শনাক্ত করা হয়। এসব কোষ দূষিত পদার্থ আটকে ফেলার কাজটি করে। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে দেখা যায়, এ সবগুলো প্লাসেন্টাতেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কার্বন কণিকা উপস্থিত ছিল।

মিয়াশিতা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা জানতাম বায়ুদূষণ ভ্রূণের ক্ষতি করে এবং জন্মের পরেও সে শিশুর ওপর প্রভাব রেখে যায়। মায়ের ফুসফুস থেকে প্লাসেন্টায় দূষণ পৌঁছায় বলেই কি এমন হচ্ছে কিনা, তা জানতে চেয়েছিলাম আমরা।’

গবেষকরা বলেন, প্লাসেন্টায় এত বেশি দূষণ পাওয়া যাবে, আশা করেননি তারা। বেশিরভাগ দূষণ ফুসফুস বা তার আগেই আটকে যাওয়ার কথা।

এই গবেষণায় মাত্র পাঁচটি প্লাসেন্টার ওপর পরীক্ষা করা হয়। আর এটাও নিশ্চিত হওয়া যায় না যে প্লাসেন্টা থেকে ভ্রূণে এই দূষণ পৌঁছায় কিনা। কিন্তু গবেষকরা দাবি করেন, তা খুবই সম্ভব এবং এ কারণেই ভ্রূণের ওপর দূষণের নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। শুধু তাই নয়, তারা দাবি করেন প্লাসেন্টা পর্যন্ত দূষণ পৌঁছালেই তা ভ্রূণের ক্ষতি করার জন্য যথেষ্ট।