সবাইকে ট্রেনিং করানো দরকার –  শেখ হাসিনা

উইমেনজার্নাল.কম, আপডেট: ২০১৯-১২-২২ ১:৫০:২৭ এএম

ঢাকা: দলের কমিটিতে বিভিন্ন পদে রদবদলের বিষয়ে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একেকবার একেকজনকে দায়িত্ব দিয়ে দিয়ে সবাইকে ট্রেনিং করানোও দরকার। আগামী দিনে সংগঠনটা যাতে ভালোভাবে চলে।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে গণভবনে সম্মেলন উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত কাউন্সিলদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান নবনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এর আগে দুপুরে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে  কাউন্সিল অধিবেশনে বিনা- প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টানা নবমবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। এ সম্মেলনে টানা দ্বিতীয় বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিনা- প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

পরে আওয়ামী লীগের কার্যানির্বাহী সংসদের ১৭ জন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, চার জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ৮ সাংগঠনিক সম্পাদক পদের মধ্যে ৫ জনের (বাকিদের নাম পরে ঘোষণা করা হবে) নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সদ্য ঘোষিত কার্য‌নির্বাহী সংসদের বেশ কিছু পদে রদবদল দেখা যায়। যার মধ্যে মন্ত্রী পরিষদে থাকা ৭ সদস্যও দলীয় পদ হারানো উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া  কাউন্সিল অধিবেশনে ৫১ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদে ৪০ নেতার নাম ঘোষণা করা হয়। আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের বেশ কয়েকজনের নাম ঘোষণা করা হয় এবং স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের এখন নেতাকর্মী অনেক… আমাদের কিছু কিছু পরিবর্তন করতে হয়। একেকবার একেকজনকে দিয়ে দিয়ে সবাইকে ট্রেনিং করানোও দরকার। আগামী দিনে সংগঠনটা যাতে করে ভালোভাবে চলে সে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সংগঠনকে শক্তিশালী করতে বাকি থাকা জায়গাগুলোতে দ্রুত কাউন্সিল করার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন,  ‘যেখানে যেখানে হয়নি সে সম্মেলনগুলো তাড়াতাড়ি করে ফেলতে হবে। আগামীতে সম্মেলনগুলো একদম যথাযথ করতে হবে। আর না করলে সেই কমিটিগুলো আমরা ভেঙে দেব। একটা নিয়মের মধ্যে, শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ আমি বলবো যে আমাদের ক্ষমতায় আসা এটা শক্তিশালী সংগঠন থাকা একান্ত দরকার। আর শক্তিশালী সংগঠন থাকলেই পরে যেকোনো অবস্থা মোকাবিলা করা যায়। এবং আমরা সেটা করতে পারছি।’

সরকার ও দলের বদনাম হয় এমন কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে টানা ৯ বারের আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘যেহেতু আমরা সরকারে আছি, দীর্ঘদিন সরকারে আছি সে কথাও মাথায় রাখতে হবে। একটানা সরকারে থাকলে অনেক সময় সংগঠন ও সরকারেরও বদনাম হয়।’

‘এমন কিছু না করা যাতে পার্টির বদনাম হয়, আমাদের সরকারের বদনাম হয়, দেশের বদনাম হয়। সেটা যেন না হয়।’

বঙ্গবন্ধুর বইগুলো পড়তে নেতাকর্মীদের অনুরোধ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘সংগঠনের সুনাম এটা ধরে রাখতে হবে, ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। আর দয়া করে জাতির পিতার বইগুলো একটু পড়বেন সবাই। প্রতিটি নেতা-কর্মী অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামছা পড়া উচিত।’

টানা তিন বারসহ চার বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা কথা বলতে পারি জনগণের কাছে আমরা আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে পারছি। সেটা যেন আমরা ধরে রাখতে পারি, এটা যেন অব্যহত থাকে। সেভাবে সকলকে কাজ করতে হবে।’

শেখ হাসিনা তার সরকারের নেওয়া উন্নয়ন কাজগুলো যার যার এলাকায় যেন ভালোভাবে চলে, সঠিক ভাবে যেন কাজগুলো হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে বলেন নেতাকর্মীদের।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হচ্ছে সর্বপ্রথম জনগণের দল। বাকি যা সেটা মিলিটারি ডিকটেটরদের পকেট থেকে আসা। উড়ে এসে জুড়ে বসা- তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই জনগণের প্রতি, আমাদের আছে। কারণ এই সংগঠন মানুষের কথা বলার জন্য, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গড়ে উঠেছিল। সে কথাটা মনে রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দলের মান সম্মান যাতে থাকে। মানুষের আস্থা-বিশ্বাস যাতে অর্জন করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করবেন এটা আমি আশা করি। সহযোগী সংগঠনগুলো যাতে সেভাবে গড়ে ওঠে ’বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ সময়: ০১৫০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২২, ২০১৯

এজে/আই